নিজস্ব প্রতিবেদকঃ নিজ ইউনিয়ন বক্তাবলীতে আওয়ামীলীগের কমিটি করতে পারলেন না থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম শওকত আলী।
বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন স্থগিত হয়ে যায়। থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়ে নিজ ইউনিয়নের সম্মেলন করতে ব্যর্থ হওয়ায় শওকত আলীর সাংগঠনিক সক্ষমতা নিয়ে থানা জুড়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
গত ২৬ নভেম্বর শনিবার বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। এসময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সম্মেলনের চেয়ার ভাঙচুর করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে সম্মেলন পণ্ড হয়ে যায়।
সম্মেলনে উপস্থিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সম্মেলন শুরুতেই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীরা তাদের নাম প্রস্তাব করেন। পরে ভোটাভোটি শুরু হয়। প্রথমে সুশৃঙ্খলভাবে ভোটগ্রহণ চলছিল। একপর্যায়ে সভাপতি প্রার্থী শফিক মাহামুদের সমর্থক দিল মোহাম্মদ দিলু, মহিউদ্দিনসহ আরও কয়েকজন আবুল হোসেন প্রধানের সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বাজে মন্তব্য করতে গেলে দুইপক্ষের মধ্যে হৈচৈ শুরু হয়।
একপর্যায়ে তা হাতাহাতি এবং ধাক্কাধাক্কিতে রূপ নেয়। পরে কাউন্সিলর ও ডেলিকেটাররা স্থান ত্যাগ করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সম্মেলন স্থগিতের ঘোষণা দেন ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম সাইফউল্লাহ বাদল। পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে।
এ বিষয়ে মো. শফিক মাহমুদ গণমাধ্যমকে বলেন, ইচ্ছা করেই আমার সমর্থকদের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক করে এবং ধাক্কাধাক্কি করে আবুল হোসেন প্রধানের সমর্থকরা। আমি দুইপক্ষকেই থামানোর জন্য চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু আবুল হোসেন প্রধানের সমর্থকরা আমার ওপরও হামলা করে। আমি বিপুল ভোটে জয়ী হবো বলেই এমন ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তাই আমি পুনরায় এই নির্বাচন চাই। অপর সভাপতি প্রার্থী আবুল হোসেন প্রধান বলেন, শফিক মাহমুদের নিশ্চিত পরাজয় ভেবে তারই সমর্থিত দিলুসহ আরও লোকজন পরিকল্পিতভাবে সম্মেলনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। সিনিয়র নেতাদের সামনে উশৃঙ্খল আচরণ করে দলের লোকদের উত্তেজিত করে সম্মেলন পণ্ড করে দিয়েছে।
ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী বলেন, যারা সম্মেলনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে তাদের বিরুদ্ধে দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এরআগেও ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ে শওকত চেয়ারম্যানের সামনে দু’পক্ষ মারামারিতে জড়িয়ে যায়। ওই সময় মারামারি থামাতে গিয়ে থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর লাঞ্ছিত হয়।
Leave a Reply